,

গিনেস বুকে নাম লেখাতে চায় ডিএসসিসি

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নাম লেখাতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।  এজন্য আগামী ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তিতে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে অর্ধলাখ মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে বলে আশা করছে ডিএসসিসি। কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা।
ভারতের গুজরাটে ২০১৭ সালের ২৮ মে বদোধারা শহরে  বদোদারা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন পাঁচ হাজার ৫৮ জন কর্মী নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে। শহরের একতা ডান্ডিয়া বাজার রোড পরিষ্কার করে এ রেকর্ড গড়া হয়।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মেক্সিকোর। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির একটি শহরে এক হাজার ৭৬৭ জন লোকের অংশগ্রহণে একটি পাবলিক স্পেস পরিষ্কার করে ওই রেকর্ডটি করা হয়।

বদোদারা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা, পাশাপাশি রাজধানীর বাসিন্দাদের সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে ডিএসসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মেয়র সাঈদ খোকন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে প্রচার অভিযান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।  তাদের সহায়তা করবে  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএসসিসি মনে করে, ভারতের ওই শহরে যে সংখ্যক মানুষ নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়েছে সে সংখ্যার চেয়ে বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে ডিএসসিসি’র। এ অবস্থায় নিজেদের কর্মীদের দিয়ে  পরিচ্ছন্নতা  অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করলেও ওই রেকর্ডটি ভাঙা সম্ভব। এছাড়া, এই কর্মসূচিতে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করা গেলে গিনেস বুকে নাম লেখানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে। এজন্য চৌত্র সংক্রান্তির দিনে এ উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসি’র কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল সকাল সাতটা থেকে নগর ভবনে ডিএসসিসি’র নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ আগতদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশন চলাকালে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়ার জন্য সবার হাতে একটি করে ঝাড়ু, মাথার ক্যাপ ও মুখের মাকস দেওয়া হবে। ঝাড়ুর সঙ্গে একটি বারকোড ও হাতে নির্দিষ্ট যন্ত্রবিশেষ দেওয়া হবে। এরইমধ্যে  ৩০ হাজার ঝাড়ু সংগ্রহ করা হয়েছে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ ড্রোন, স্যাটেলাইন ও লাইভ ভিডিওসহ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি গণনা করবেন।

কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে জাতীয় স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ফায়ার সার্ভিস, নৃত্য শিল্পী, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নগরবাসীকে উপস্থিত থাকতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। রেকর্ড গড়তে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে এ কর্মসূচিতে অর্ধলাখ বা তার বেশি জনসমাগমের আশা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংস্থার ৫৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি চলাকালে ৫০ জন করে গ্রুপ করে দেওয়া হবে। প্রতিটি দলকে মনিটরিংয়ের জন্য ডিএসসিসি, অনুষ্ঠানের স্পন্সর কোম্পানি ও গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের একজন করে তিনজন প্রতিনিধি থাকবেন। এসময় যারা মনযোগ দিয়ে কাজ করবেন না, গণনা থেকে তারা বাদ পড়ে যাবেন।

কর্মসূচির নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত   ফুলবাড়িয়া থেকে পল্টন পর্যন্ত  সড়ক বন্ধ রাখা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ডিএসসিসি’র সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এর আগে পাঁচ হাজার  লোকবল নিয়ে রেকর্ড গড়েছিল ভারত। শহর পরিচ্ছন্ন অভিযানে অতীতের যে রেকর্ড রয়েছে, তা ভাঙতে ডিএসসিসি’র লোকবলই যথেষ্ট। বর্তমানে ডিএসসিসি’র পাঁচ হাজার ২১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। সব মিলিয়ে এ কাজে লোকবল রয়েছে সাত হাজারের বেশি। কিন্তু  মেয়রের ইচ্ছা বড় একটি রেকর্ড গড়ার, যা সহজে ভাঙা যাবে না।

এ বিষয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চাই নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। এর মাধ্যমে এমন একটি রেকর্ড গড়তে, পরবর্তীতে যেটা কেউ ভাঙতে না পারে। আগামী ১৩ এপ্রিল আমরা সেই রেকর্ড গড়তে চাই।’ এজন্য ওই দিন নগরবাসীকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান মেয়র।

মতামত.........