,

গাইবান্ধায় বানভাসীদের মানবেতর জীবন যাপন

Gaibandha  PHOTO -001সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা (সদর) প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি না হওয়ায় বান ভাসি মানুষদের জীবন যাবন চরম দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ফলে গৃহপালিত পশু পাখিগুলোকে নিয়ে একই সাথে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। এতে করে বান ভাসি মানুষেদের মাঝে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। বে-সরকারি ভাবে বানভাসি মানুষদের মাঝে তেমন কিছু সহযোগীতা করা না হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র “সংবাদ সবসময়কে” জানান, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২২.৫১ সে: মি. এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২০.৬০ সে. মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।02

জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের সিংড়িয়ার রতনপুর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া পয়েন্টে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বন্যার পানির তোড়ে বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। হঠাৎ করে বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় রতনপুর গ্রামের অনেক মানুষের বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র ও মজুদ ধান-চাল বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, উদাখালি, উড়িয়া এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ও বোয়ালি ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার ৫০ হাজার মানুষ এখন নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়ি-ঘর হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। এছাড়া এসব এলাকার রোপা আমন, আমন বীজতলা, পাট, শাক সব্জি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে বন্যার পানির তোড়ে ফুলছড়ি উপজেলার চন্দ্রনস্বর গুচ্ছ গ্রামটি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বন্যা কবলিত গৃহহীন পরিবারগুলো ফুলছড়ি উপজেলা হাইস্কুল মাঠে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

e33886480ab3ec3bc558fb4359f91622-579a175308f09
বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানির তোড়ে রতনপুর-বাদিয়াখালি সড়কের হাজিরহাট সংলগ্ন ব্রীজটি ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া কাতলামারি, সিংড়িয়া, উদাখালী, গুণভরি সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ফুলছড়ি উপজেলার সাথে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের পৌর এলাকার কুটিপাড়া, ডেভিডকোম্পানীপাড়া ও গোদারহাটের ৮টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ দিয়ে এখনও পানি চোয়াচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং লোকজন বাঁধ পাহারা দিচ্ছে। এ নিয়ে শহরবাসি আতংকের মধ্যে রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু চৌধুরী “সংবাদ সবসময়কে” জানান, বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় ৬৫টি মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক বন্যা দূর্গতদের মেডিকেল সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ “সংবাদ সবসময়কে” জানান, বানভাসি মানুষদের সাহায্য সহযোগীতা করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মতামত.........