,

কেরানীগঞ্জে ৬ হাজার বন্দি স্থানান্তর ২৮টি গুরুতর সমস্যা রেখেই !

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ

সংবাদ সবসময় ডেস্ক :

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাড়ে ৬ হাজার বন্দিকে কেরানীগঞ্জের নির্মিত নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে গত ৩০ জুলাই। অথচ দুই দিনের মাথায় বৈঠক করে এই কারাগারের সমস্যা চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কিত গুরুতর কিছু সমস্যার কথাও উঠে এসেছে।  সব মিলিয়ে মোট ২৮টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ১৯৪ একরের বেশি জমিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি।

বন্দি স্থানান্তরের এক দিন পর ১ আগস্ট কারা সদর দপ্তরে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, এই সভাতে উঠে আসে নানা সমস্যার কথা।  এর মধ্যে অন্যতম: সীমানা প্রচীরের কাজ শেষ না করেই ৬ হাজারেরও বেশি বন্দি স্থানান্তর করা হয়েছে।  এতে করে খুব সহজেই যে কেউ বন্দিদের সঙ্গে বাইরে থেকেই কথা বলতে পারছে।  আবার কারাগারের ভেতর থেকে চাইলেই যে কোনো তথ্য বাইরেও চালান করা যাচ্ছে।  অথচ স্থানান্তরকৃত বন্দির মধ্যে ৮শ’র বেশিই রয়েছে ডেঞ্জার সেল।

শুধু তা-ই নয়, কারা সীমানার প্রবেশপথে প্রস্তাবিত প্রধান ফটকের নির্মাণ কাজ শেষ না হওযায় ব্যাহত হচ্ছে কারাগারে নিয়োজিত কারারক্ষী থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাও।

কেরানীগঞ্জ কারাগার কমপ্লেক্স

কেরানীগঞ্জ কারাগার কমপ্লেক্স

সভায় কেরানীগঞ্জ কারাগারের মোট ২৮টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।  এর মধ্যে রয়েছে- রান্নাঘরের সমস্যা, বন্দিদের গোসলের জন্য ওয়ার্ডের পাশে অতিরিক্ত চৌবাচ্চা নির্মাণ, অতিরিক্ত সাক্ষাৎ কক্ষ নির্মাণ, সাক্ষাৎ প্রার্থীদের জন্য প্রতীক্ষাকক্ষ শেড নির্মাণ, এমআই ইউনিট (আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য শিট দিয়ে শেড তৈরি করে বসার ব্যবস্থা করা), কারাকক্ষের অভ্যন্তরে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা না থাকা, বন্দিদের গোসলের জন্য চৌবাচ্চা না থাকা, ওয়ার্ডে বন্দিদের কাপড় রাখার ব্যবস্থা না থাকা, প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে খালি অংশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিন দিয়ে বন্ধ না করা, উৎপাদন বিভাগ সম্প্রসারিত না করা, বন্দিদের ডাকার চোঙ্গা না থাকা, কারা সীমানায় প্রবেশ পথে প্রস্তাবিত প্রধান ফটকের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া, গাড়ির জন্য অতিরিক্ত গ্যারেজ না থাকা, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়া, স্কুলের নকশা না থাকা, পুকুর খনন না করা, ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড না থাকা, কারাভ্যন্তরে বড় গাড়ি প্র্রবেশের ব্যসস্থা না থাকা, মসজিদ সম্প্রসারণ না করা, পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা না থাকা, ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ সমাপ্ত না করা, সেন্টার টাওয়ার না থাকা, কোয়ার্টারে এসির সংযোজনের জন্য লোড বিয়ারিং ক্যাপাসিটি কম থাকা, কোয়ার্টারে টয়লেটের পানি নিঃষ্কাশন এবং অন্যান্য সমস্যা, ৮০০ বর্গফুট কোয়ার্টারে অতিরিক্ত পানির ট্যাংক না থাকা, আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া, কারাগারে শেড না থাকা।

মতামত.........