poloce-nihotoসংবাদ সবসময় ডেস্ক :

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেশের সবচেয়ে বড় এ ঈদগাহের প্রবেশমুখে তল্লাশির সময় জঙ্গিরা হামলা চালায়। জঙ্গিরা আকস্মিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। তাদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য জহুরুল হক (৩০), আনসারুল (৩৫), স্থানীয় বাসিন্দা ঝর্না রানি ভৌমিক ও এক জঙ্গি নিহত হয়। তবে নিহত জঙ্গির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।images

হামলার ‍কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা পাশের আজিমুদ্দিন হাইস্কুলের পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। এর চারদিক ঘেরাও করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে হামলার ষষ্ঠ দিনে ঈদ জামাতে এ বর্বর হামলার ঘটনা ঘটলো।

রাজধানীর গুলশনে জঙ্গি হামলার এক সপ্তাহও কাটেনি। এর মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো কিশোরগঞ্জ। তাও আবার উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতকে ঘিরে। শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজের সময় এ হামলা চালায় জঙ্গিরা। এখনো পর্যন্ত বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের, আহত অনেকেই।

ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশপথে জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুইজন পুলিশ সদস্য, হামলাকারী জঙ্গি ও এক নারী নিহত হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো বেশকয়েকজন পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ ও ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- এসআই নয়ন মিয়া এবং কনস্টেবল জুয়েল, রফিকুল, প্রশান্ত, তুষার, মশিউর ও আসাদুল। এছাড়া আব্দুর রহিম, মোতাহার হোসেন ও হৃদয় নামের তিন মুসল্লিকেও আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা ঈদের নামাজ পড়তে ওই মাঠে আসেন। ডেপুটি সিভিল সার্জন হাবীবুর রহমান জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ জানিয়েছে, করস্টেবল জহিরুল ইসলামকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল (৪০) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া ঝর্না রানি ভৌমিক ঘরের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহের কাছে বোমাহামলা, পুলিশসহ নিহত ৪

মতামত.........