,

কাজ নেই কষ্টে আছে, ঠাকুরগাঁওয়ের এক লাখ দিন মজুর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি-

পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচেছ ঠাকুরগাঁওয়ের প্রায় এক লাখ দিন মজুর।কাজের খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরছে উপজেলা শহর থেকে জেলা শহরে। অনেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকা সহ বিভাগীয় শহরে পাড়ি দিচেছ কাজের সন্ধানে।

রোববার সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ললিত রায় (৪৫) শহরের পুরাতন বাসস্ট্যানে কাজের খোঁজে এসেছিলেন । কিন্তু কাজ জোটেনি । পরে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই দিন মজুর।তিনি বলেন, বাপু হামরা (আমরা) খুব কষ্টে আছি । একই সুরে বলেন, সালন্দর গ্রামের ফয়মত উদ্দীন। এই দিন মজুর জানায় স্ত্রীসহ ৫ সন্তানের সংসারের ঘানি টানা এবার কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে ।তিনি দু:খ করে বলেন গরিব মানেই বঞ্চনা। হরিপুর উপজেলার গেদুরা গ্রামের দবিরউদ্দিন বলেন, গতবার এ সময় কাজ ছিল এবার কাজের অভাব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সাহেবদের দিন হামার চিরকাল আন্ধার।শেষে বলেন অভাব তার উপর জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে এভাবে কী করে বাচাঁ যায়! তাছাড়া এনজিও’র কিস্তিতো আছেই।


বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানব কল্যান পরিষদের এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে, এ সংস্থার পরিচালক রবিউল আযম বলেন, ঠাকুরগাঁর ৫ উপজেলার ১ হাজার ১৬ টি গ্রামের কৃষি শ্রমিক ও দিন মজুরদের হাতে এবার এ সময়ে কাজ না থাকায় মানবেতর দিন যাপন করছে এ জেলার প্রায় ১লাখ শ্রমজীবি মানুষ


সংস্থাটি জানিয়েছে গত বছর এসময় সরকারের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু থাকায় শ্রমিকরা কাজ পেয়েছিল । কিন্তু এবার এধরনের কোন কর্মসুচি না থাকায় কাজের অভাব দেখা দিয়েছে । এছাড়া এবার বৈরি আবহাওয়া দরুন আগাম ধান কাটা, আলু আবাদ,আখচাষ ব্যবহত হওয়ায় কৃষি কাজের সংকট দেখা দিয়েছে। গৃস্থালির কাজ ও নেই এসময় ।তারপরন্তু চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের দর উর্ধমুখি।


এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ত্রাণ ও পুর্ণবাসন (পিআইও ) কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, এ সময় ৪০দিনের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু এখনও পযর্ন্ত এ কর্মসূচী আসেনি, আসলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।


শ্রমজীবিদের কর্মসংস্থান ও পুর্ণবাসন বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।

মতামত.........