,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প: তুমি আশা ৫৫ তম পর্ব

তুমি আশা ৫৫ তম পর্ব…

জেসমিনের মুখ তার ক্যানসার কথা শুনে সুমী এবং তার খালতো বোন নিপা একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল কেউ কথা বলতে পারছেনা আকাশটা যেন ভেঙ্গে তাদের মাথায় পড়ল।মা, বাবার এক মাত্র আদরের মেয়ে জেসমিন হঠাৎ করে তার জীবনে কেন এই কালবৈশাখী নেমে এল।জেসমিনের মত একটি ভাল মেয়ে কত সুন্দর স্বপ্ন ছিল তার, তার জীবন নিয়ে। আজ সবাই শেষ হয়ে যাচ্ছে তিলে তিলে।নিপা জেসমিনের গলা জড়িয়ে কান্না করছে, জেসমিন তাদের শান্তনা দিয়ে বলছে আমাকে যদি তোমার সত্যি ই অন্তর থেকে ভালবাস তবে আমার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া কর আল্লাহ যেন আমাকে এই ক্যানসার নামক রোগ থেকে মুক্তিদান করেন।কান্না করে ভাল হবে না বরং কষ্ট পাবে সবাই। আমি তো আমার মনটা শান্তনা দিয়েছি কারণ মৃত্যুর উপরে কারো হাত নেই। মহান আল্লাহ তালার খুশীতে আমি নিজেও খুশী।পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি আর কোরআন তিলায়াত করি।তোরা আমার জন্য কোন চিন্তা করবি না।আমি জানি তোরা সবাই আমাকে অনেক ভালবাসিস।কিন্ত কি করবি সবাই কে একদিন এই নশ্বর পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগ করে পরপারে যেতে হবে।

জহুরা বেগম এবং জেসমিনের আম্মা আড়াল থেকে জেসমিনের কথা গুলি শুনছেন কত সুন্দর শান্তনা দিচ্ছে জেসমিন তার বান্ধবিদের কথা গুলি শুনে তাদের চোখ দিয়ে ঝরনা মত পানি ঝরছে।জহুরা বেগম জেসমিনের রুমে প্রবেশ করে বলছেন তোর মত শান্ত মেয়ে যেন বাংলার ঘরের ঘরে জন্ম নেয়।জহুরা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন আয় মা আমার বুকে আয় তোকে জড়িয়ে একটু আদর করি।জেসমিনকে বুকে নিয়ে বার বার চুমা দিচ্ছেন আর বলছেন হে আল্লাহ আমার জীবনের বিনিময়ে এবং যদি জীবনে ভাল একটি কাজ ও আমি করে থাকি তার বিনিময়ে এই মেয়েটির জীবন তুমি ফিরে দাও মাবুদ সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।জেসমিন সবাই কে বলছেন তোমার ভেঙ্গে পড়লে চলবেনা।সবাই শক্ত হোন সময়ের সাথে যুদ্ধ করে ঠিকে থাকতে হবেই,আর তিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন তাকে খুশী এবং রাজি করেই আমাদের সবার চলা উচিত। জেসমিন বলল আজ তোমাদের সবার কাছে একটা কথা বলব তোমরা কি আমার কথাটি রাখতে পারবা আমাকে কথা দাও।আমি যা বলব সে কথাটি কাউকে বলতে পারবা না।আমার জন্য অন্য আরেকটি জীবন নষ্ট হোক তা আমি চাই না।জহুরা বেগম এবং সবাই বলছেন কি তোর কথা বলব আমার কাউকে জানাব না কথা দিলাম। জেসমিন বলব সত্যিই তোমরা আমার আপনজন।তোমাদের সাথে কিন্ত একটি কারণে আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং আম্মুকে ও বলেছি তোমাদের ফোন আসলে তিনি যেন বলেন আমি বাসায় নেই। কিন্ত তোমাদের প্রতিটি ফোনের আলাপ আমি শুনতাম কিন্ত কথা বলতাম না,আর আমি তো বাহির থাকার মেয়ে ও নই।তার একমাত্র কারণ হল কাউসার আহমেদ চৌধুরী। তোমরা যদি জানতে এত দিন আমার ক্যানসার হয়েছে নিশ্চয়ই কাউসার ও জেনে যেত আমার ক্যানসার হয়েছে আমি আর বেশি দিন বাঁচব না তখন কাউসার অনেক অনেক কষ্ট পেত। আমি চাইনা কাউসার তার জীবনে কোন কষ্ট পাক আমার জন্য।

আপনারা কথা দিন আমার ক্যানসারের কথা কাউসারকে কখনো বলতে পারবেন না।সুমী তোই কি জানিস ঐদিন আমি কোথায় থেকে আসছিলাম। কাউসারের বিশেষ অনুরোধে আম্মা সহ তার সাথে দেখা করেছে এবং আমি বাধ্য হয়ে তার সাথে খারাপ আচরণ করেছি যা মানুষের পক্ষ সম্ভব নয় আমি তাই করেছি।সবাই বলল ওকে তোর ক্যানসারের কথা আমরা কাউসারের নিকট গোপন রাখব এজন্য চিন্তা করিস না।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে সুমী আম্মা জহুরা বেগম বললেন এখন আমরা চলে যাব সব সময় যোগাযোগ রাখিও আর ভাবী আপনি আমাদের জানাবেন জেসমিনের কখন কি হয় না হয়।এ বলে তারা সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। এদিকে কাউসার বাড়ীতে যাওয়ার পরে তার মন মানুষিকতা দূর্বল হয়ে যাচ্ছে আর বার বার চিন্তা করছে।জেসমিন কেন তার সাথে এত খারাপ আচরণ করছে আর কেনই বা তার জীবনটা পাল্টিয়ে দিচ্ছে কিছু ভেবে পাচ্ছে না।সময় মত নামাজ পড়ে আর আল্লাহ কাছে ফরিয়াদ করে হে আল্লাহ তুমি জেসমিনের মনে শান্তনা সৃষ্টি করে দাও।

একদিন রাতে কাউসারে পাশে তার বন্ধু আতিক ঘুমিয়েছি সে শুনতে পাচ্ছে কাউসার ঘুমের মধ্যে জেসমিন জেসমিন বলে চিৎকার করছে। আতিকে ঘুম ভেঙ্গে যায়।সকালে ফজরের আজান শুনে কাউসারের ঘুম ভেঙ্গে যায়।আতিককে নিয়ে সে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে চলে যায়।নামাজ পড়ে আসার পথে আতিক জিজ্ঞাসা করল কাউসারকে বন্ধু আমাকে একটি সত্য কথা বলবে কি? কাউসার জবাবে বলল বল আতিক আমি সত্য কথা বলা পছন্দ করি এবং সত্যবাদী লোককে ভালবাসি।আতিক বলল তোর জীবনে কি কাউকে ভালবাসি আর যাকে ভালবাসিস তার নাম কি জেসমিন।কাউসার বলল হা আতিক আমি তাকে আমার জীবনের চাইতে ও ভালবাসি তবে তোই কি করে জানলে বল বন্ধু।আতিক বলল গত রাতে ঘুমের ঘরে তোই জেসমিন বলে চিৎকার করসি তখন আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কাউসার এবং আতিক বাড়ীর কাছে আসতেই তার বাবা আফজাল চৌধুরী কাউসারের হাতে একটি পোষ্ট অফিসের চিঠি তার হাতে দিলেন লন্ডন দূতাবাস হতে চিঠি আসছে। কাউসার চিঠি খুলে দেখতে পেল তার ষ্টুডেন ভিসা হয়ে গেছে লন্ডনের জানুয়ারি মাসে ১০ তারিখ তার লন্ডন যাবার টিকেট হয়ে গেছে।বাংলাদেশ সরকার তার নিজেস্ব খরছ বহন করছে।কাউসার তার মা, বাবাকে কদমবুসি করে বলল তোমাদের মনের বাসনা হয়তো মহান আল্লাহ তালা পূর্ণ করেছেন জানুযারি মাসে ১০ তারিখ তার লন্ডন যাবার প্রাইট।কথা গুলি শুনে তার আব্বা, আম্মা মহান আল্লাহ তালার শুকিয়া আদায় করলেন আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলে।।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা, সাথে নতুন একজন এসে জুটল জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক। আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার।

মতামত.........