,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প তুমি আশা ৫৩-৫৪ তম পর্ব একত্রে

তুমি আশা ৫৩ তম পর্ব…

জেসমিন সুমীর কথা কর্ণপাত না করেই চলে গেল বাসায়।জেসমিন বাসায় বিছানায় পড়ে কান্না শুরু করছে আর বলছে আল্লাহ তুমি আমাকে এ কেমন পরীক্ষায় মধ্যে পেলে দিয়েছ।সবার ভালবাসাকে বিসর্জন দিয়ে আমি এখন একাকার হয়ে আছি।যাকে ছাড়া আমার জীবনের এক মিনিটের ভাবনা ছিল না সেই মানুষটিকে আমি আজ নিজ হাতে এত কষ্ট দিলাম কিন্ত আমার যে করার কিছুই নেই।আমি তাকে আজো ভালবাসি তাই আমার মৃত্যু পথযাত্রা জীবনে তাকে জড়িয়ে তার জীবনটা আমি নষ্ট হতে দিতে পারিনা।হে আল্লাহ তুমি আমার কাউসারকে সাহস দাও শক্তি দাও সে যেন আমাকে ভুলে থাকতে পারে।আমার ভালবাসা ছিল নিঃস্বার্থ তার মাঝে কোন চাওয়া পাওয়ার ছিল না, তাই তো তাকে আমি মৃত্যু স্বপ্ন দেখাতে পারি না।আমার জীবন চলার পথে তাকে নিয়ে কত রঙিন স্বপ্নের জাল বুনে ছিলাম।আজ সেই স্বপ্নের জাল ছিড়ে আমি চলে যাচ্ছে অজানা এক অচিনপুরের ঠিকানায়।যেখান থেকে আর কেউ কোন দিন ফিরে আসবে না হয় সেটা আমার শেষ সম্ভল।মা তাহের বেগম মেয়ের এই আকুতির কান্না শুনে নিজে ও কেঁদে ফেলছেন।আর মেয়েকে বুঝাচ্ছেন কি করবি মা, এ যে নিয়তির লিখন তা কেউ কন্ডাতে পারবে না।কখন আমরা কি চলে যাব কেউ বলতে পারি না।মেয়েকে তিনি বললেন নামাজ পড় মা, নামাজ শেষে আল্লাহ কাছে ফরিয়াদ কর তিনিই সব কিছুর মালিক তিনি ইচ্ছে করলে এই রোগ থেকে তোমাকে মুক্তি করে দিতে পারেন।

জেসমিন মায়ের কথা মত ওজু করে নামাজ পড়ে আল্লাহ কাছে মোনাজাত ধর তার রোগমুক্তির কামনা করছে। এমন সময় বাসার ফোন বেজে ওঠো, তাহেরা বেগম ফোন ধরে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কেউ সুমীর আম্মা সালামের জবাব দিয়ে বললেন আমি সুমীর আম্মা আপনি কেমন আছেন ভাবী সাহেবা।তাহেরা বেগম বললেন আমি আপনার দোয়াতে ভাল আছি। জহুরা বেগম বললেন ভাবী জেসমিন কোথায় আজ কয়দিন মেয়েটিকে অনেক মিস করছি সুমী বাসায় এসে বলল,সে নাকি রাস্তায় কোথাও জেসমিন কে রিস্কায় দেখে ডাকছে জেসমনি সুমীর ডাকে কোন সারা না দিয়ে রিস্কা নিয়ে চলে যাচ্ছে।সুমী বাসায় এসে আমাকে বলছে আর কান্না করছে তাই আমি ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম তাদের মাঝে কি হয়েছে এত মধুর সম্পর্কের মধ্যে ওরা তো একে অন্যকে অনেক ভালবাসে বন্ধু হিসাবে।জেসমিনকে একটু ফোনটা দেন আমি জিজ্ঞাসা করিব।তাহেরা বেগম বললেন জেসমিন এখন নামাজ পড়ছে ভাবী আমি তাকে বলব আপনি ফোন করেছিলেন তবে সুমী কেমন আছে।সুমী ভাল আছে তার সাথে কথা বলবেন কি।তাহেরা বেগম বললেন দেন মা সুমীর কাছে ওরা আমাদের মেয়ের মত আমি ও সুমীকে অনেক মিস করি কিন্ত বিভিন্ন সময়ের কারণে তার সাথে কথা বলতে পারি নাই। সুমী তাহেরা বেগমকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করিল খালাম্মা আপনি কেমন আছেন আমি কি অপরাধ করেছি আপনারা সবাই আমার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছেন।করুণার সুরে কথা গুলি বলছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরেছে,সুমী বলল আমার জীবনে আমি একটি ভাল বন্ধু পেয়েছিলাম জেসমিনকে।জানিনা সে কেন এখন আমাকে সব সময় এড়িয়ে চলছে খালাম্মা।জেসমিন পাশে থাকলে তাকে ফোনটা দেন।তাহেরা বেগম বললেন সে নামাজ পড়ছে মা তবে আমি তাকে বলব সে যেন তোমাকে ফোন করে এই বলে তিনি ফোন রেখে দিলেন।

জেসমিন নামাজ শেষে তার আম্মাকে জিজ্ঞাসা করল কে ফোন দিয়েছিল আম্মা।তাহেরা বেগম বললেন ফোন দিয়েছিলেন সুমীর আম্মু পরে সুমীর সাথে ও কথা বললাম।সুমী ফোনে কান্না করছে তোই তাদের সাথে যোগাযোগ বন্দ করে দিয়েছিস এজন্য।আবার আমি তাকে কথা দিয়েছি তোই নামাজ শেষে তাকে ফোন দিবে কি করবি মা বলতো ওরা যে সবাই তোকে অনেক অনেক ভালবাসে।কিন্ত একদিন তো সবাই জানতে পারবে তোর ক্যানসার হয়েছে তখন আমি তাদের কাছে কি জবাব দিব বল মা।জেসমিন বলল আমি তো শুধু গোপন রেখেছি কাউসার যেন শুনতে না পায় এজন্য।ঠিক আছে মা আমি সুমী এবং নিপাকে জানাব তবে শর্তের বিনিময়ে।এই বলে জেসমিন সুমীদের বাসার নাম্বারে ফোন দিল।ফোন ধরলেন সুমীর আম্মু জহুরা বেগম জেসমিনের কণ্ঠ শুনতে পেয়েই প্রথমে জিজ্ঞাসা করলেন মা জেসমিন তোই কেমন আছিস কি হয়েছে তোর আমরা সবাই তোকে অনেক মিস করছি কেন আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্দ করে দিয়েছিস।সুমী আজ সারা দিন বিছানায় পড়ে কান্না করছে তোর জন্য।কথা গুলি শুনে জেসমিন ও কান্না করছে।জেসমিন বলল খালাম্মা আমার কি হয়েছে আমি ফোনে বলতে পারব না তবে আমার একটা কিছু হয়েছে সে জন্য আমি আপনাদের সবাই কে এড়িয়ে চলছি এটা সত্য।আজ বিকেলে সুমী এবং নিপাকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসুন আমি আপনাদের সব কিছু বলব।জহুরা বেগম মেয়ে সুমীকে ডেকে বললেন সুমী তাড়াতাড়ি আয় জেসমিন তোর সাথে কথা বলবে।মায়ের মুখ থেকে জেসমিনের কথা শুনে যেন আকাশে চাঁদ পেল হাতের মুঠোতে।সুমী কান্না জড়িত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল জেসমিন তোই কেমন আছিস, জেসমিন বলল আমি অনেক অনেক ভাল আছি আজ বিকেলে খালাম্মা সহ নিপা তোই আমাদের বাসায় চলে আয় আমি তোকে সব কিছু খুলে বলব। দুই বান্ধবি অনেক ক্ষন আলাপ করার পরে জেসমিন বলল এখন ফোন রেখে দিলাম, সাক্ষাতে আবার কথা হবে।

তুমি আশা ৫৪ তম পর্ব…

ঠিক বিকেল চারটা দিকে সুমী এবং তার আম্মু জহুরা বেগম জেসমিনদের বাসার যাওয়ার জন্য রওয়ানা হইলেন।বাসার সামনে গিয়ে কলিং বেল টিপ দেওয়ার সাথে সাথে জেসমিনের আম্মা তাহেরা বেগম গেইট খুলে দিয়েই জহুরা বেগমকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন আপু কেমন আছেন।জহুরা বেগম সালামের জবাব দিয়ে বললেন কেমন করে ভাল থাকতে পারি আপনি বলুন ভাবীজান,জেসমিন মেয়েটার জন্য সব সময় মনটা ছটফট করছে।আসুন ভাবী ভেতরে আসুন বাহিরে দাড়িয়ে আমরা কথা বলা শুরু করেছি।সুমী আগেই চলে গেল বাসার ভেতরে গিয়ে জেসমিনকে জিজ্ঞাসা করল তোই কেমন আছিস।তোর কি হয়েছে বল তো বা আমার কাছ থেকে কি কখনো কোন ধরণে আঘাত পেয়েছিস যার কারণে আমাদের বাসার সবার সাথে তোই যোগাযোগ বন্দ করে দিয়েছিল বল জেসমিন।জেসমিন বলল তোকে আজ সব কিছু খুলে বলব আর বলার জন্য বলেছি বাসায় খালাম্মাকে নিয়ে আয়।তবে আগে চা,নাস্তা করে নে।নিপাকে ও আমি ফোন দিয়েছি সে আসার জন্য হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যে চলে আসবে।

তাদের এই আলাপের মধ্যে আবারো কলিং বেল বেজে ওঠো।সুমী নিজে গিয়ে গেইট খুলে দেখল নিপা গেইটের সামনে দাড়িয়ে আছে।অনেক দিন পরে তাদের দেখা হল নিপাকে নিয়ে সুমী বাসার ভেতরে ডুকে গেল। তাহেরা বেগম সবার জন্য চা,নাস্তার আয়োজন করতে লাগলেন।নিপা গিয়ে জিজ্ঞাসা করল খালাম্মা কেমন আছেন আপনি।সবাই চায়ের টেবিলে বসে চা পাণ করছেন এমন সময় নিপা বলল জেসমিন তোর শরীর একেবার শুকিয়ে গেছ কেন, তোই কিসের টেনশন করছিস বোন বলতো আমার।সবার চা পান করা শেষ এক পর্যায়। জেসমিন বলল আজ আমার কিছু কথা বললার জন্যই তোমাদের সবাই কে আমি ডেকেছি, আমি জানি তোমাদের সাথে আমি যোগাযোগ না করাতে তোমরা সবাই আমাকে খুবই মিস করছে ঠিক তেমনি আমি ও তোমাদের মিস করছি,তোমাদের ফোন আসলে আমি ফোন ধরি নাই কারণ নিজের মনকে শান্তনা দিতে পারব না। সুমী বলল কি এমন হয়েছে তোর বল।জেসমিন বলল আমি এখন কিছু কথা বলব তার আগে আমাকে তোমাদের কথা দিতে হবে কাউকে সেই কথা গুলি জানাতে পারবে না এমনি তোমরা ও আমার জন্য কোন চিন্তা করতে পারবে না এই বলে জেসমিন তার চিকিৎসার সব কাগজ পত্র এমন কি ওষুধ গুলি তাদের সামনে এনে হাজির করল।এগুলি দেখার সাথে সাথে তাহেরা বেগমের চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি ঝরছে।জহুরা বেগম বললেন ভাবী আপনি কাঁদছেন কেন? তাহেরা বেগম বললেন ভাবী আমার ঘরের সূর্যে আলো নিভে গিয়ে অমাবর্শ্যার অন্ধকারে ঘ্রাস করছে।এই বলে তাহেরা বেগম জহুরা বেগমের গলায় জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন,জেসমিন তার মাকে শান্তনা দিয়ে বলছে মা কান্না করে ভাল নেই আর তোমাকে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না।

তাহেরা বেগম বললেন হঠাৎ করে জেসমিনের আব্বা আবিদ সাহেব মারা গেলন মেয়েটিকে আমার কুলে রেখে।অনেক কষ্টে লালন পালন করে তাকে মানুষ করতে চেষ্টা করছি অনেক সময় মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কষ্ট ভুলে গিয়েছি।এখন মেয়েটি ও পরপারের যাত্রা পথে শুরু করেছে ভাবী জেসমিনের ক্যানসার হয়েছে ভাবী এখন আমি হতভাগী কি নিয়ে বেচে থাকব, কেন আল্লাহ আমাকে বার বার এত কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করছেন।তাহেরা বেগমের কথাটি শুনে সবাই একদম স্তব্ধ হয়ে গেলেন কারো মুখে কোন কথা আসছে না শুধু দু,নয়ন দিয়ে পানি ঝরছে শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা কারো জানাই নেই। নিপা জেসমিনের গলায় ধরে কান্না করতে লাগল।জেসমিন সবাই কে বলল শান্ত হোন আমার কথা শুনেন কান্না করে ভাল হবে না।সবাই আল্লাহ তালার ইচ্ছে তাহার উপর কারো হাত নেই। তিনি যা ভাল তাই করেন। আমি এতে মোটেই বিচলিত নই।তোমার কান্না বন্দ কর আমার কথা শুন নামাজ পড়ে সবাই আমার রোগমুক্তির জন্য মহান আল্লাহ দরবার মোজানাত করুণ তিনি দয়ালু দয়ার সাগর। জহুরা বেগম বললেন জেসমনি তোই একটি শান্ত মেয়ে আজো মৃত্যুর মোখামুখি হয়ে অশান্ত হলে না। জেসমিন সবাইকে বলল আজ কিছু তোমাদের বলছি না তবে অন্য একদিন তোমাদের সবার কাছে একটি কথা আমি বলব। আমার সেই হাজারো সাধনার কষ্টে ফসল।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা, সাথে নতুন একজন এসে জুটল জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক। আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার।

মতামত.........