,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প “তুমি আশা” ৫০-৫১-৫২ তম পর্ব একসাথে

“তুমি আশা”…

পরের দিন রাত ১১ টায় ঠিকই কাউসার এবং ফারহানা একি বাসে পাশাপাশি সিটে বসল সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্য। ফারহানা জানালার পাশের সিটে বসা রাতে পুর্ণিমার আলোতে দুরের গ্রাম গুলি অনেক সুন্দর লাগছে। সে কাউসারকে বলল দেখুন দুরের গ্রাম গুলি কত সুন্দর জলমল করছে পুর্ণিমার আলোতে মন হারিয়ে যায় কেনা ভালবাসে এই পূর্নিমায় রাতকে।কাউসার বলল সত্যিই তো মায়াবী সৌন্দর্য্য যেন গ্রামগুলি শীতলপাটিতে ঘুমি আছে পুর্নিমার জলমল আলোতে।কাউসার বলল আপনি তো সত্যিই একজন প্রকৃতির প্রেমিক।যার প্রকৃতির প্রেমিক তারা দুর্বল মনের অধিকারী এবং সহজ সরল মানুষ তারা।ফারজানা বলল আপনি কি প্রকৃতিকে ভালবাসেন নাই কাউসার বলল প্রকৃতি আছে বলেই তো আমরা বেঁচে আছি প্রকৃতি ছাড়া মানুষ বাচতে পারে না। ফারজানা কাউসারের মুখের দিকে থাকিয়ে একটু মৃদু হেসে বলল আপনার ব্যক্তি কিছু জানার আগ্রহ হল জানতে কি পারব।কারণ কারো অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত জানা ভাল নয়। কাউসার বলল কি জানবেন ব্যক্তিগত আমি তো সাধারণ মানুষ এটাই আমার ব্যক্তিগত পরিচয় এর বাহিরের আর কি জানতে চান বলুন। ফারজানা কাউসারের কথা গুলি শুনে বলল বাহ্ আপনি তো খুবই রোমান্টিক মনের একজন মানুষ। লেখাপড়া শেষ করে কি করবেন ভাবছেন।কাউসার বলল লেখা পড়া শেষ করতে আর চার বছর বাকি আছে এখন বলব আপনাকে জানিনা ডাক্তারী লেখা পড়া শেষ করতে পারব কি না আল্লাই জানেন কারণ তিনি সর্বজ্ঞ। তবে আমার আব্বা ডাঃ আফজাল চৌধুরী সাহেবের মনের ইচ্ছে আমি যেন ডাক্তারি পাশ করে মানব সেবায় নিজে আত্মনিয়োগ করতে পারি আব্বার মনের বাসনা পুর্ণ করাই আমার কাম্য। ফারজান বলল আর কি কোন ভাবনা নেই আপনার মাঝে নিজের জীবন নিয়ে। কাউসার বলল এখন সেই ভাবনা আমার মাঝে হয়নি যখন আসবে তখন না হয় ভাবব।ফারজানা হেসে বলল আজব মানুষ আপনি তো। আপনাকে নিয়ে যদি কেউ ভাবে তাহলে তার ভাবনা কি সঠিক হবে না।কাউসার বলল আমি করি করে জানব আল্লাহ ইচ্ছে ছাড়া দুনিয়ার একটি গাছের পাতা ও নড়ে না।

কথা বলতে বলতে কাউসারের ঘুম চলে আসছে আর ফারজানা মনে মনে ভাবছে এই সুর্দশন ছেলেটির ভালবাসা পাবে সেই মেয়ে খুবই ভাগ্যবতী হবে নিশ্চয়ই।সে কাউসারের প্রতিটি দুর্বল হয়ে পড়ছে কিন্ত কাউসার তাকে প্রকাশ করার সুযোগ দিচ্ছেনা শুধু তার প্রতিটি কথা এড়িয়ে চলছে। কাউসার অঘোর ঘুমিয়ে তার মাথার কিছু অংশ ফারজানের বুকের উপর চলে গেছে। ফারজানার বুকটা কেপে উঠল।তার জীবনে প্রথম কোন পুরুষের মাথা তার বুকে পড়ছে।সে কাউসারকে কোন কিছুই বলছেনা আর দুর্বল হলো কবে সে বাস্তবে তার বুকে মাথা রাখবে। হঠাৎ করে কাউসারের ঘুম ভেঙ্গে গেল সে দেখলো ফারজানার বুকে তার মাথা সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল কি বলে ফারজানার কাছে ক্ষমা চাইবে তা ভাবতে পারছে না। আর আল্লাহর কাছে বার বার বলছে হে আল্লাহ আমি তোমাকে ভয় করি তোমার জাহান্নামকে ভয় করি আমার অজানা হয়ে গেল এই দুর্ঘটনা তুমি আমায় ক্ষমা কর। কাউসার কোন কথা বলতে পারছে না ফারজানা বলল আপনার কি হয়েছে এত কি ভাবছেন। কাউসার বলল আমাকে কি আপনি ক্ষমা করবেন। ফারজান বলল এটা দুর্ঘটনা এর জন্য এত চিন্তিত হবার কিছু নেই। কাউসার একটু শান্তি পেল। এক সময় বাস এসে পৌঁছিয়ে গেল সিলেটে।বাস থেকে নেমে কাউসার একটা রিক্সা ডাকলো। ফারজানা বলল আপনি কোথায় যাবেন কাউসার বলল আমি আম্বরখানাতে যাব।ফারজান বলল আমি আম্বরখানা যাব আমাদের বাসায়। চলুন একি রিক্সায় চলে যাই এই বলে দুজন এক রিক্সায় যাচ্ছে।ফারজানা বলল আপনি কার বাসায় যাবেন কাউসার বলল আমি যখন ভার্সিটিতে পড়ছি তখন আমার ভার্সিটির অধ্যক্ষ জনাব হাবিবুল বাসার সাহেবের বাসা থেকে লেখা পড়া করছি উনার বাসায় যাব বিকেলে দিরাই চলে যাবো। প্রথমে হাবিব সাহেবের বাসা পরে ফারজানাদের বাসায় রিক্সা এসে পৌঁছে গেল হাবিব সাহেবের বাসার গেইটের সামনে কাউসার রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিতে চাইল কিন্ত ফারজানা দিতে দিচ্ছে না। কাউসার গেইটে কলিং বেলে টিপ দিল সুমী এসে গেইট খুলে দেখে কাউসারকে দেখা মাত্র বলল এত সকাল কেথায় থেকে আসছ। ফারজানা সুমীকে দেখে রিক্সায় চড়ে চলে গেল।

কাউসার বাসায় ঢুকে প্রথমেই জহুরা বেগমের রুমে চলে গেল। জহুরা বেগমকে সালাম দিয়ে বলল খালাম্মা কেমন আছেন।তিনি বললেন আমি ভাল আছি। জহুরা বেগম বললেন কাউসার এত সকাল কোথায় থেকে আসছ।কাউসার বলল আমি ঢাকা থেকে আসছি আমি লন্ডন দূতাবাসে আমার সব কাগজ পত্র জমা দিয়ে আসলাম হয়তো ১৫/২০ দিনের মধ্যে আমাকে ডাকতে পারে।জহুরা বেগম শুনে বললেন আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ তোমার মনে বাসনা পুর্ণ করেন।সুমী কাউসারের জন্য নাস্তা নিয়ে আসল।জহুরা বেগম বললেন কাউসার নাস্তা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়।সুমী কাউসারের বিছানার রেডি করে বলল কাউসার কিছু সময় ঘুমিয়ে পড়।তোমার বিছানা রেডি করা আছে সারা রাত লং জার্নি করছ।কাউসার বিছানায় শুয়ে শুয়ে জেসমিনের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ছে।

৫১তম পর্ব…

বিকেল দুটা বেজে গেল কাউসার ঘুম থেকে জেগে ফ্রেশ হল আর সুমী কাউসারের খাবার ডাইয়িং টেবিলে রেডি করে কাউসার কে বলছে খানা রেডি খেতে আসুন।সুমী এবং কাউসার একি টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে এক সময় কাউসার সুমী কে জিজ্ঞাসা করল জেসমিন এবং নিপার খবর কি? সুমী বলল নিপার সাথে যোগাযোগ হয় কিন্ত জেসমিনের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারছি না। ওদের বাসার ফোনে ফোন দিলে ওরা আম্মা বলেন জেসমিন বাসায় নেই এমন কি জেসমিন কখনো ফোন দেয় নি।কাউসার কথা গুলি শোনে বলছে ব্যাপার কি? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা।আগে তো সে কখনো বাসার বাহিরে একা বেরুচ্ছে না হঠাৎ করে কেন তার মাঝে এমন পরিবর্তন আসলো কাউসার একটু চিন্তিত হয়ে গেল কারণটা কি তাকে জানতে হবে।খাওয়া দাওয়া শেষ করে কাউসার সুমীকে বলল জেসমিনদের বাসায় ফোন দাও আমি কথা বলব।সুমী ফোন দিতেই ফোন ধরলেন জেসমিনের আম্মা সুমী বলল খালাম্মা কাউসার কথা বলবে আপনার সাথে। কাউসার সালাম দিয়ে বলল খালাম্মা কেমন আছেন এবং জেসমিন কেমন আছে।জবাবে জেসমিনের আম্মা বললেন আমি ভাল আছি এবং জেসমিন ও ভাল আছে তবে ও বাসায় নেই বাহিরে গেলে।কখন ফিরবে বাসায় আসলে ফোন দিতে বলবেন। আমার জরুরী আলাপ আছে তার সাথে আর শুনেন আমি ঢাকায় লন্ডন দুতাবাসে আমার সব কাগজ পত্র জমা দিয়েছি হয়তে সপ্তাহের মধ্যে আমায় ডাকবে ওরা দুবাতাসে যাওয়ার জন্য দোয়া করবেন। তাহেরা বেগম বললেন ওকে বাবা দোয়া করব।কিন্ত তাহেরা বেগম কাউসারকে তাদের বাসায় যাওয়ার কথা বলেন নি আগে কাউসারকে প্রায়ই বললেন আমাদের বাসায় বেড়াতে আস কাউসার ভাবছে এত বড় একটা খুশীর সংবাদ দিল কিন্ত তাহেরা বেগম তাকে বাসায় যেতে বলেন নাই কারণটা কি? সে আরো বেশী চিন্তিত হয়ে গেল। এদিকে কাউসারের ফোন শেষে তাহেরা বেগমের চোখ দিয়ে পানির ঝরছে জেসমিনের সাথে ওয়াদা রাখতে গিয়ে কত কষ্ট করে ও সত্য কথাটি বুকে চাপা দিয়ে রেখেছেন। জেমসিন যখন জানতে পারল তার ক্যান্সার ধরা পরেছে তখন সে তার আম্মা তাহেরা বেগমকে শপত করিয়েছিল যেনো কাউসার জানতে না পারে তার ক্যান্সার হয়েছে আর তার আম্মাকে বলেছে কাউসারের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ রাখবেনা। জেসমিন চায়না কাউসার তার জীবনের সাথে জড়িয়ে কাউসারের জীবনটাকে নষ্ট করুক।সে চায় তাকে ভুলে গিয়ে নতুন কাউকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখুক।তাই তাহেরা বেগম কাউসারের সাথে এবং সুমী নিপার কাছে সত্য প্রকাশ করতে পারছেন না। তিনি জানেন কাউসার জেসমিনকে অনেক অনেক ভালবাসে তিনি ও তাদের গভীর ভালবাসা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাদের ভালবাসা মেনে নিয়েছিলেন কারন এক মাত্র মেয়ে জেসমিনের মনে তিনি কখনো কষ্ট দিতে চান নাই।

সন্ধ্যা প্রায় ৭ টা বেজে গেল কাউসার অপেক্ষা করছে কিন্ত জেসমিনদের বাসায় থেকে কোন ফোন আসছে না।সে মনে মনে ভাবছে কি তা হলে এখনো বাসায় ফিরে নি আর ফিরে তো অবশ্যই ফোন করত নাকি সে কাউসারকে ভুলে অন্য কোন ছেলেকে ভালবেসে ফেলেছে।এই কথা গুলি ভাবতে ভাবতে কাউসার আবার ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করিল খালাম্মা জেসমিন কি এখনো বাসায় ফিরে নি।তিনি বললেন না এখন ও ফিরে নি কখন ফিরে তাও জানতে পারি নাই। কাউসার আবার বলল সে যদি রাতে বাসায় আসে তাহলে বলবেন আমাকে ফোন দিতে আর যদি ফোন নাও দেয় বললেন আমার সাথে ভার্সিটিতে দেখা করতে আমার খুবই প্রয়োজন তাকে। জেসমিন আড়াল থেকে সব গুলি কথা শুনছে আর শ্রাবণের ঝরের মত তার দুটি চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।জেসমিন জানে কাউসার তাকে তার জীবনের চাইতে ও বেশী ভালবাসে কিন্ত সে চায় যেন তাকে ভুলে যায়। কাউসার ফোন রেখে দিল।তাহেরা বেগম বললেন জেসমিন তুই কাউসারের সাথে দেখা কর দেখা করে কথা বল ছেলেটা তোর জন্য পাগল হয়ে গেছে। জেসমিন তার আম্মাকে বলল যদি আবার ফোন দেয় তবে বল আগামীকাল ঠিক দশটায় ভার্সিটি দেখা করতে। রাত প্রায় এগারো টা বাজল কাউসার আবার ফোন দিল তাহেরা বেগম ফোন ধরে কথা বললেন, কাউসার জিজ্ঞাসা করল খালাম্মা জেসমিন কি বাসায় ফিরেছে তিনি বললেন হা বাবা জেসমিন বাসায় ফিরে তার মাথা ব্যথা করছে বলছে আগামীকাল দশটায় ভার্সিটিতে দেখা করতে।কাউসার কথা গুলি শুনে আশ্চার্য হয়ে গেল কি ব্যাপার জেসমিন তাকে বাসায় যেতে বলে নি।কাউসার বলল ওকে আমি দশটা যাব ভার্সিটিতে এই বলে সে ফোন রেখে দিল।কাউসার তার রুমের বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছে কি হল জেসমিনের হঠাৎ করে কেন জেসমিন তাকে এড়িয়ে চলছে কাল অবশ্যই জানতে পারব কাউসার ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে ফজরের আজান শোনার সাথে সাথে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল।মসজিদে গিয়ে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষ কিছুক্ষন কোরআন তেলাওয়াত করে বাসায় এসে নাস্তা করল। ঘড়িতে ঠিক সাড়ে নয়টা বেজে গেল। জহুরা বেগমকে বলল খালাম্মা আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি এমন কি একজন লোক দেখা করবে আমার সাথে সময় বেশী হলে বাসায় নাও ফিরতে পারি আমি বাড়ীতে চলে যাব এই বলে সে সুমী এবং জহুরা বেগমের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটিতে চলে গেল।

ঠিক দশটায় জেসমিন এবং তার আম্মা একটা রিক্সায় ভার্সিটির গেইটে ডুকলেন রিক্সা বিদায় দিয়ে তারা কাউসারের কাছে আসলেন কাউসার তাহেরা বেগমকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করল খাম্মা কেমন আছেন। তিনি বললেন আমি ভাল আছি তোমরা একটু গল্প কর আমি আসছি।কাউসার জেসমিনকে জিজ্ঞাসা করল কেমন আছ তুমি জেসমিন বলল আমি অনেক ভাল আছি।কাউসার বলল এত রাত পর্যন্ত তুমি বাসার বাহিরে কি কর।জেসমিন বলল কাউসার এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার কেন ডেকেছ বল আমার সময় নেই তেমন বসে গল্প করার। কাউসার কথা গুলি শুনে বলল জেসমিন কি বলছ ভেবে বলচো।হা ভেবেই বলছি তুমি কি শুনতে পাওনা।কাউসার বলল হঠাৎ করে তোমার এই পরিবর্তন কেন আমাকে ভুলে কি কাউকে ভালবেসেছ নাকি।জেসমিন বলল তোমাকে একটা কথা বলব আমাকে তুমি ভুলে যাও।নতুন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখো। কাউসার বলল একি বলছ তুমি সেজমিন বলব আমি যা বলছি সত্যিই বলছি আমাকে তোমার ভুলে যেতেই হবে।এই কথা শুনার সাথে সাথে কাউসার খুবই জোড়ে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল জেসমিনের গালে তার পরে ও জেসমিন বলল আরেকটা দাও তবু ও তোমাকে ভুলে যেতে হবে।জেসমিন বলল আরেকটা কথা শোন আমি যেখানে থাকি না কেন তোমার জন্য সব সময় শুভ কামনা থাকবে শুধু কাছে পাওয়ার নাম ভালবাসা নয় এই বলে জেসমিন তার আম্মাকে নিয়ে কাউসারের নিকট থেকে বিদায় নিল।

৫২ তম পর্ব…

কাউসার নয়ন ভেজা নয়নে বিদায় নিয়ে আসল।আর যাবার বেলা বলে দিল তোমার ভালবোসা এত স্বার্থপর ছিল আমার জানা ছিল না।সুন্দর পৃথিবীর নতুন স্বপ্নের জাল বুনিয়ে দিয়ে আমাকে আজ নিঃস্ব করে দিলে জেসমিন তোমাদের মত মেয়েদের পক্ষে তাই করা সম্ভব।তুমি ছিলে আমার স্বপ্নময় পৃথিবীর নতুন এক ঠিকানা। বাবার স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আর পাশাপাশি তোমাকে নিয়ে কল্পনা করেছিলাম প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছি জীবনের সাথে। তুমি জান না তোমার ভালবাসার জন্য আমি সুমী এবং নিপার ভালবাসাকে অবহেলার করে আসছি প্রতিনিয়ত। সুমী নিজে আমাকে পাবার জন্য দুটি বছর আমার সব দায়িত্ব তার কাধে তুলি নিয়েছিল। সে আমাকে ভালবাসে মনে প্রাণে আমার কাছে বার বার প্রকাশ করছে। আমি তাকে কথা দেই নি শুধু মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আসছি।আমি সুমীর কাছে কোন দিন বলিনি সুমী আমি তোমার বান্ধবি জেসমিন কে ভালবাসি। শুনলে সে অনেক কষ্ট পাবে আমি জানি।তাকে শুধু প্রবোধ দিয়ে আসছি আর বলছি আল্লাহ উপর ভরসা রাখ। আচ্ছা জেসমিন বলতো সুমী কি তোমার চাইতে কোন দিকে কম নাকি।অথচ দুটি বছর আমার পাশে থেকে ও সে আমার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত ছিল।কারণ ভালবাসা সৃষ্টি হয় দুটি আত্মার সম্পর্কের বন্ধনে।আমার ভালবাসার সাথে প্রতারণা করে যদি নতুন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখ তবে জীবনে সুখী হও তবে তাকে ও আমার মত নিঃস্ব করে তোমার জীবন থেকে দূরে সরে দিও না।মানুষের জীবন নিয়ে খেলার করার কোন অধিকার তোমার নেই। জেসমিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাউসারের অপমানিত কথা গুলি শুনছে, সহ্য করে আর তার চোখ দিয়ে বৃষ্টির মত পানি ঝরছে। জেসমিন কাউসারকে কখনো বুঝতে দেয়নি তার ক্যানসার হয়েছে এবং সে আর বেশী দিন বাঁচবে না। সে চায় তার ভালবাসার নামটি আজীবন সুখী দাম্পত্য জীবন করুক অন্য কাউকে নিয়ে।এজন্য সে কাউসার কে বলে দিয়েছে আমাকে ভুলে যাও এবং তুমি আমাকে ভূলে যেতে হবে। আর বলল মনে কর কাউসার তোমার সাথে এটাই আমার জীবনে শেষ দেখা আর কখনো দেখা হবে না। আর শোন প্রতিদিন নামাজ পড়িও নামাজে শেষে আমার জন্য এই দোয়াটাই করিও আমি যেখানে থাকি সুখে যেন থাকি যদি কোন দিন মন থেকে তোমার এক সেকেন্ড ও ভালবেসেছিলে সেই ভালবাসার দাবী নিয়ে বলছি। এই বলে দুজন বিদায় নিয়ে চলে গেল।

কাউসার রিক্সায় চলে গেল বাসস্ট্যান্ডে দিরাইয়ের টিকেট নিয়ে সে বাসে উঠে বসল এমন সময় ফারজানা ও বাসের টিকেট নিয়ে বাসে উঠে জিজ্ঞাসা করল আপনার পাশে সিট খালি আছে আমি কি বসতে পারি কাউসার বলল ওকে।জেসমিন তার মাকে নিয়ে রিক্সায় যাচ্ছে প্রতিমধ্যে সুমী তাদের দেখে ডাকতে শুধু করছে জেসমিন জেসমিন বলে জেসমিন শুনে ও না শুনার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে আর ড্রাইভারকে বলছে তাড়াতাড়ি চালাও।ড্রাইভার দ্রুত গতিতে রিস্কা চালাচ্ছে সুমীর রিস্কা থেকে অনেক দুরে চলে গেল।সুমী মনে মনে ভাবছে ব্যাপার কি আমি ডাকলাম আর জেসমিন চলে গেল নাকি আমার ডাক সে শোনতে পায়নি আমাকে তো সে এড়িয়ে যাবার কথা নয় সে তো আমার ভাল একটা বান্ধবি। জেসমিন বাসায় কিছু হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হল তখন তার মাকে বলল আম্মু আমি কাউসারকে এই ভাবে আঘাত দেওয়া কি ঠিক হল। জানিনা সে কতটুকু কষ্ট পেয়েছে আর আল্লাহর কাছে বলছে হে আল্লাহ তুমি আমার মনের মানুষ টিকে কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দান কর।সে যেন আমাকে ভুলে থাকতে পারে।

এদিকে কাউসারের বাস ছেড়ে দিচ্ছে জানালার পাশে বসে দুর আকাশের প্রাকৃতির দৃশ্য গুলি সে আপন মনে অনুভব করেছে।চলন্ত বাসের মৃদু মৃদু হাওয়াতে তার তন্দ্রা নেমে আসছে দুচোখে।কিন্ত সে ঘুমাচ্ছে না।মনে মনে ভাবছে প্রাকৃতির দৃশ্য দেখে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি মধ্যে কতই রহস্য তিনিই জানেন। গাছ পালা, লতা পাতা বৃক্ষ কত সুন্দর। আমরা কার্বনডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি আর গাছ বৃক্ষ লতাপাতা তা গ্রহন করে।আর গাছ অক্সিজেন ত্যাগ করে আমরা তা গ্রহন করে বেঁচে আছি,। ফারজানা কাছে বসে আছে কিন্ত কাউসারের কোন খেয়াল নেই তার প্রতি।অথচ মাত্র তিন আগে ঢাকা লন্ডন দূতাবাসে যাওয়ার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল পাশা পাশি সিটের যাত্রী হয়ে তাদের মাঝে একটা বন্ধুত্ব পূর্ন সম্পর্ক হয়েছিল।ফারজানা কাউসার কে বলল আর কিছুক্ষন পরেই বাস থেমে যাবে আমাদের বাড়ীর সামনে আমি চলে যাব কিন্ত এত সময় আপনি কি যেন ভাবছেন আমি আপনার পাশে বসে আছি অথচ আপনি আমাকে একটি কথা ও জিজ্ঞাসা করলেন না।কাউসার বলল স্যরি আমি প্রাকৃতির দৃশ্য গুলি অনুভব করছিলাম। কত সুন্দর করে তিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবীকে।কত অপুর্ব। বাস এসে পৌছে গেল ফারজানার বাড়ীর সামনে ফারজানা কাউসারের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল আর বলল আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ ঢাকায় লন্ডন দুতাবাসে। কিছুক্ষন পরেই বাস এসে পৌছে গেল দিরাইয়ে কাউসার বাস থেকে নেমে রিস্কায় নিয়ে তার বাড়ীতে পৌছে গেল।।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা, সাথে নতুন একজন এসে জুটল জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক। আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার।

মতামত.........