,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প “তুমি আশা” ৪৭তম পর্ব

“তুমি আশা” ৪৭ তম পর্ব..

সকালে ঘুম থেকে জেগে নাস্তা খেয়ে জহুরা বেগমের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে কাউসার সহ সুমী আর নিপা চলে গেল নিপার বাসায় যাবার বেলা কাউসার জহুরা বেগম কে বলল খালাম্মা আমি আপনার ঋন কখনো শোধ করতে পারব না আমি লন্ডন যাবার সময় আবার আসবো আপনার কাছে বিদায় নিতে। জহুরা বেগম বললেন পাগল ছেলে আমার মায়ের কাছে সন্তান কখনো ঋনী তাকে না। প্রতিটি মা তার সন্তানকে যা কিছুই করেন মায়ের মাতৃত্ববোধের করেন এ যে মায়েদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। প্রতিটি মা তার সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। আর তোমার মত সৎ এবং আদর্শ সন্তান যে মা গর্ভে ধারণ করেছেন তিনি পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ট মা আমি তাকে স্যালুট করি এই বলে তিনি কাউসারের হাতে ৫০০০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বললেন এই টাকা গুলো নাও তুমি খরছ করবে। কাউসার সাধারন ভাবে চলাফেরা করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরছ করা সে কখনো পছন্দ করে না। কাউসার টাকা নিতে চাচ্ছে না জহুরা বেগম বললেন যদি টাকা গুলি তোমার মা তোমাকে দিতেন তা হলে কি তুমি নিতে না। টাকা গুলি হাসি মুখে জহুরা বেগমের হাত থেকে তুলে নিল।

নিপার বাসায় এই প্রথম বার কাউসারের যাওয়া, যাওয়ার সময় মিষ্টি সহ অনেক কিছু নিল। বাসায় গিয়ে নিপার মাকে কদমবুসি করে তাহার কুশালাদি জিজ্ঞাসা করল। নিপা তার আম্মার সাথে কাউসারের পরিচয় করিয়ে দিল।নিপার আম্মা তাদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। নিপার রুমে বসে তিনজন গল্প করতে লাগল। এমন সময় নিপা সুমীকে বলল সুমী তুইতো ভাল কফি বানাতে পারিস। তিন কাপ কফি নিয়ে আয় না, মাকে বলিস সব তোকে দেখিয়ে দিবেন নিপার কথা মত সুমী চলে গেল কফি বানানোর জন্য এই সময়ে নিপা তার মনের ভেতর লুকিয়ে রাখা ভালবাসা প্রকাশ করল কাউসারের নিকট। কাউসার নিপাকে আশ্বাস দিয়ে বলল আল্লাহু উপর ভরসা রাখ আল্লাহু ইচ্ছার বাহির কিছু হয় না। তিনি চাইলে তোমার মনের বাসনা পূর্ণ করতে পারেন। নিপা একটু শান্ত প্রিয় মেয়ে অল্পতেই অনেক কিছু বুঝে নিপা ও কাউসারকে বলল আমি ও আল্লাহু উপর ভরসা করে আছি তবে তোমার মনের অনুভূতি আমার জানা হলো।সুমী কফি নিয়ে আসছে তারা বসে কফি পান করছে এই মুর্হুতে নিপার আম্মা এসে বললেন তোমরা সবাই আসলে কিন্ত আমার মা মনি জেসমিনকে সাথে নিয়ে আসলে না কেন?.

এই কথা শোনার সাথে সাথে নিপা জেসমিনদের বাসায় ফোন দিল। জেসমিনের আম্মা ফোন ধরে কথা বললেন নিপা বলল খালাম্মা জেসনিমকে পাঠিয়ে দেন আমাদের বাসায় কাউসার সহ আমরা সবাই আছি কাউসার বিকেলের দিকে চলে যাবে তার বাড়ীতে। তিনি নিপাকে বললেন জেসমিন আসতে পারবে না কারণ সে তার ফুফুর বাড়ীতে বেড়াতে চলে গেছে এই বলে তিনি ফোন রেখে দিলেন। এদিকে জেসমিনের শারীরিক অবস্থা ভাল নয় গতরাতে হঠাৎ করে তার বমির সাথে রক্ত চলে আসছে সাথে সাথে তিনি ফোন দিলেন ডাঃ আনিসুল সাহেবকে তিনি ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলেন জেসমিনদের বাসায়। তিনি জেসমিনকে পরীক্ষা করে দেখলেন তার শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। আপাতত ঔষধ এবং একটা ইনজেকশন দিলেন। জেসমিন একটু শান্ত হচ্ছে তখন সে ডাঃ আনিসুল সাহেবকে জিজ্ঞাসা করল আঙ্গেল আমার কি হয়েছে আমাকে একটু বলুন কোনো কিছু আমার কাছে লুকানোর চেষ্টা করবেননা। আমি আল্লাহর উপর পূর্ন বিশ্বাসী যা কিছুই হবে তাহার ইশারায় হয় এতে আমি ভয়ের কোন কারণ দেখি না প্লিজ আমাকে সত্য বলুন আমার কি হয়েছে। জানার জন্য জেসমিন অস্থিরতা বোধ করছে। ডাঃ আনিসুল সাহেব বললেন তুমি একটু বস আমি আসছি এই বলে তিনি চলে গেলেন জেসমিনের আম্মুর রুমে।

তিনি জেসমিনের আম্মুকে বললেন কি করব ভাবী বুঝতে পারছি না। মেয়েটি তার কি হয়েছে জানার জন্য অস্থিরতা বোধ করছে। কি ভাবে তাকে বলব তোমার ক্যানসার হয়ে গেছে শোনলে মেয়েটি কি সহ্য করতে পারবে আমি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেছি কিন্ত আজ না হোক কাল সে জানবে তার ক্যানসার হয়ে গেছে। জেসমিনের আম্মু বলেন লুকিতো তার রোগ রাখা যাবে না তাকে তো বলতেই হবে একদিন সে যেহেতু জানার জন্য আগ্রহ এবং অস্থিরতা বোধ করছে আমার মনে হয় তাকে কষ্ট দেওয়া ভাল হবে না। ডাঃ আনিসুল সাহেব বললেন আমি ও তাই ভাবছি তবে আপনি আমার সাথে আসুন আমি জেসমিনকে বলব। দুজন মিলে চলে গেলেন জেসমিনের রুমে। ডাঃ আনিসুল বললেন আমি তোমার কাছে সত্য প্রকাশ করব তবে শর্ত আছে। জেসমিন বলল বলুন। ডাঃ আনিসুল সাহেব বললেন আল্লাহু উপর সম্পুর্ণ বিশ্বাস রাখা আমাদের উচিত তিনি যা ভাল মনে করেন তা আমাদের মেনে নিতে হয়। তোমাকে বাঁচার জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হবে, তোমাকে শক্ত হতে হবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না,আর আমরা তো তোমার জন্য যা কিছু করার তাই চেষ্টা করব,। প্রয়োজনে তোমার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে বাহির পাঠাব আমি আজই সিঙ্গাপুরে ভাল হাসপাতালের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করব তোমার চিকিৎসার জন্য, তোমার ক্যানসার হয়েছে মা জেসমিন।

জেসমিন ও তাই অনুভব করে এবং কথা গুলি শোনার সাথে সাতে দুফোটা অশ্রু তার চোখ দিয়ে ঝরে পড়ছে। সে তাদের বলল আপনার বসুন আমি আসছে এই বলে সে ওজুর করে নফল দুইরাকাত নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহু দরবারে দু,হাত তুলে ফরিয়াদ করল হে আল্লাহু তোমার ইচ্ছার বাহির কারো কিছু করার ক্ষমতা নেই মাবুদ। তুমি যা ভাল তাই কর তাতে আমি রাজি এবং খুশী। মেয়ের এই মোনাজাত শোনে জেসমিনের আম্মার চোখ দিয়ে গড় গড় করে পানি ঝরছে। জেসমিন নামাজে শেষে তাদের বলল আমার জন্য কোন চিন্তা করবেন না, আমি সর্বদায়ই সচেষ্ট বিচলিত নয়। জেসমিন তার জীবনের চাইতে সবচেয়ে বেশী  ভালবাসে কাউসারকে সে চায় না আর মিথ্যা স্বপ্ন কাউসারকে দেখতে সে অনিশ্চিত ভালবাসা দিয়ে কাউসারকে দুঃখ দিতে চায় না। সে চায় কাউসার তাকে ভুলে গিয়ে সে যেন নতুন করে জীবন গড়ে তুলে। সে আর চায় না কাউসারের সাথে মিশতে। জেসমিন মনের মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল যে ভাবেই হোক কাউসারকে তার জীবন থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

জেসমিন তার আম্মুকে বলল আম্মু তুমি তো জানো আমি কাউসারকে ভালবাসি আমি আর চাই না সে আমার সাথে মিসুক আমি চাই সে আমাকে ভুলে গিয়ে নতুন কাউকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনোক। আমি আমার ভালবাসার কাউসার কে কখনো দুঃখ দিতে পারব না। আমি কাউসারের সাথে আর ভাল আচরণ করব না সে যেনো আমার আচরণে আমার প্রতি অসুন্তষ্ট হয়ে আমাকে ভুলে যায়। আমার ক্যানসার হয়েছে এই কথা গুলি কখনো তাকে জানতে দিও না। আমি চাই না আমার জন্য আমার ভালবাসার মানুষটি সুন্দর জীবন বিনষ্ট হোক। ডাঃ আনিসুল সাহেব জেসমিনের এই সাহসীকতার কথা গুলি শোনে অনেক ধর্য্যশীল হয়ে বলেন আমরা দোয়া করি আল্লাহ তোমাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন এই বলে বিদায় নিয়ে তিনি চলে গেলেন। জেসমিন তার মনটাকে এমন ভাবে শক্ত করল যেন কাউসার নামের কাউকে সে চিনে না। তার আম্মুকে আবার বলল কাউসার যেন কোন ভাবেই আমার সাথে দেখা করতে না পারে। তাই তো নিপা ফোন দেওয়া পরে জেসমিনে আম্মু বলেন জেসমিন বাসায় নেই।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক। আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার।

মতামত.........