,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প “তুমি আশা” ৪৬ তম পর্ব

“তুমি আশা” ৪৬ তম পর্ব…

এদিকে কাউসার সহ সবাই চলে গেল সুমীদের বাসায়।কাউসার সুমীর আম্মাকে বলল খালাম্মা আগামীকাল আমি চলে যাব বাড়ীতে আব্বা আম্মা সহ সবাই আমার জন্য অধীর অপেক্ষা করছেন এবং আমি বাড়ী কিছু দিন থেকে আমার এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করতে হবে কি ভাবে আমি লন্ডন ইউনিভার্সিটি ভর্তি হতে পারব এবং আমার কি কি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লাগবে।এমন সময় নীপা বলে উঠল কাউসার সবার বাসায় গিয়েছ তুমি তা হলে কি আমাদের বাসায় যাবে না। আমার আম্মার সাথে সাক্ষাত করবে না।নীপার মুখে এই কথা শুনে কাউসারের মনটা বিচলিত হয়ে গেল, সে নীপাদের বাসায় না গেলে নীপার মনে আঘাত পাবে।সুমী ও বলল কাউসার তা হয় না তুমি নীপার আম্মা কে দেখ আস। কাউসার বলল তা হলে নীপা তুমি আজ রাত এখানে থাক কাল সকালে সুমী সহ আমরা তোমার আম্মাকে দেখতে যাব।জহুরা বেগম হেসে হেসে বললেন আমি জানতাম কাউসারের মুখ থেকে এই কথাটি আসবে কাউসারের প্রতি আমার গভীর বিশ্বাস এবং আস্তা সে কখনো মানুষের মনে আঘাত দিতে পারেনা।

সুমী এবং নিপা চলে গেল সুমীর রুমে কাউসার সুমীর আম্মার সাথে বসে গল্প করছে,। রাতে খাবারের সময় হয়ে গেল সুমী এবং নিপা খাবারের টেবিলে খাবার রেখে জহুরা বেগম এবং কাউসারকে বলল রাত অনেক হয়েছে আগে খাবার খেয়ে নাও তার পরে বসে সারা রাত গল্প করবেন। জহুরা বেগম বললেন আমি আজ রাতে খাব না তোমার তিনজন মিলে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড় সুমীকে বললেন সুমী আমার রুমের লাইট বন্ধ করে দাও। তিনজন খাবারের টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে আর গল্প করছে হঠাৎ করে সুমী বলে উঠল আমার বান্ধবী জেসমিন মনে হয় এখন ঘুমিয়ে পড়ছে জেসমিন থাকলে আরো জমা হত গল্পের আড্ডা জমে উঠত। এই কথা শোনার সাথে সাথে কাউসারের হৃৎপিন্ডে জেসমনিরে ভালবাসায় নাড়া দিচ্ছে তার চেহারা একটু মনিল হয়ে গেছে।পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার ভালবাসার মানুষটিকে প্রতিনিতয় পাশে দেখতে চায় ঠিক তেমনি কাউসার ও তার ব্যতিক্রম নহে। ভালবাসা এমন একটা জীবন তাকে তৈরী করতে মনের গহীনে অঘাধ বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়।যদি ও ভালবাসা শব্দটা চার অক্ষরের তার গতি এবং পরিধি নির্ণয় করার মত কোন বিজ্ঞানী আজো পৃথিবীতে জন্ম নেননি।মানুষ মনের গতি এক সেকেন্ডে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে উপর প্রান্তে চলে যায় তাই তো জেসমিনে নাম শোনার সাথে সাথে তার মনটা চলে গেল জেসমিনের সন্ধানে।

নিপা বলল কাউসার কি যেনো এই মুহুর্তে ভাবছে প্রিয় কাউকে মনে পড়ছে নাকি।কাউসার শত সত্যটাকে আড়ালে গোপন রেখে হেসে হেসে বলল নিপা এমন কেউ আসেনি এখনো আমার জীবনে, আর কারো কি সময় আছে আমার দিকে থাকানোর।কথাগুলি শুনে সুমী বাকা ঠোটের হাসি দিয়ে থাকিয়ে আছে কাউসারের দিকে।নিপা বলে উঠল কাউসার তোমাকে খুজে নিতে হবে তুমি জাননা অন্য কেউ হয় তো দিনের পর দিন রাতের পর রাত তোমাকে নিয়ে ভাবছে। কাউসার তো মনে মনে জানেই তিনজনই কাউসারকে মনে প্রাণে ভালবাসে কিন্তু কাউসার ভালোবাসে একজনকে আর সে হচ্ছে জেসমিন।কিন্তু কাউসার মুখ খুলে বলতে পারছেনা আমি ভালবাসি জেসমনিকে। কাউসার চায় না আরো দুটি মন দ্বিখন্ডিত হয়ে যাক।নিপা বলল সুমী আমার মাথা একটু ব্যথা করছে আমাকে এক কাপ কফি দে না বানিয়ে।সুমী তিন জনের জন্যই কফি বানিয়ে নিয়ে আসল,তিনজন কফি পাণ করল।সুমী বলল নিপা রাত অনেক হয়ে গেছে আয় ঘুমিয়ে পড়ি।নিপা এবং সুমী চলে গেল সুমীর রুমে কাউসার রুমে এসে বিছানায় পড়ে এপাশ ওপাশ করছে তার যেনো ঘুম আসছে না। মনে মনে জেসমিনের কথা ভাবছে আর ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ল।

সুমীর দুচোখের ঘুম হারিয়ে গেছে পাশে নিপা যেনো নিদ্রাদেবীর কোমল হাতের স্পর্শে ঘুমিয়ে পড়ছে।সুমী শত চেষ্টা করে ও ঘুমাতে পারছে না, বিছানা থেকে উঠে এক পা এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছে কাউসারের রুমে দিকে।কারণ ভালবাসা এমন একটি জিনিশ শত বাঁধা অতিক্রম করে ও সে চলে যেতে চায় তার ভালোবাসার মানুষটির কাছে।সুমী কাউসারের রুমে প্রবেশ করে দেখল লাইট জ্বলছে আর কাউসার মিষ্টি হাসি দিয়ে ঘুমাচ্ছে।সুমী যে মানুষ টিকে মনে প্রাণে ভালোবাসে সেই মানুষটিকে এত কাছে পেয়ে ও যেন একটু ভালোবাসার স্পর্শ দিতে পারে নাই কি যেন এটা বাঁধা দেয় তার মন তাকে।কিছুক্ষন অপলক দৃষ্টিতে দুটি নয়ন দিয়ে থাকিয়ে আছে কাউসারের দিকে আর মনে মনে ভাবছে কবে হবে তুমি আমার জীবনের সাথী আর কতদিন আমার ভালোবাসার জাল বুনে রাখব আমার এহৃদয়ে কাউসার।এই কথা গুলি ভাবছে তখন সুমীর দুটি চোখে ঘুম আসছে সুমী তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক। আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার।

মতামত.........