,

কবি আবুবকর সিদ্দিক এর গল্প “তুমি আশা” ২৪ তম পর্ব

“তুমি আশা” ২৪ তম পর্ব…

পরের দিন সকালে নিপা ঘুম থেকে উঠে সবার জন্য নাস্তা তৈরী করতে লাগল। নিপা জেসমিন কে এসে ডাকতে লাগল। জেসমিন ঘুমের সুরে বলতে লাগল কাউসার আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না। হয়তো আমায় ভালবাসো নয়তো আমার মৃত্যু উপহার দাও। নিপা কথা গুলি শুনে হাসতে লাগল আর বললে লাগল এই পাগলী কি বলছিস ঘুমের ঘুরে থেকে। কিছু ক্ষন পরে সবাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে চলে আসল। নাস্তার ফাকে নিপা সুমী কে বলল সুমী ঘুমের ঘরের একটা গল্প শুনবি আজ। সুমী বলল নিপা তোর কাছে শুধু চমৎকার কথা শুনা যায়। বলতো ঘুমের ঘরে কি স্বপ্নের গল্প। বল নাস্তা খাওয়ার ফাকে ফাকে তোর গল্প শুনব। নিপা বলল আমি সকাল বেলা জেসমিনকে ডাকতে শুধু করলাম জসমিন ঘুম থেকে উঠ সকাল হয়ে গেছে। সে ঘুমের ঘরে বলতেছে। কাউসার আমাকে ভালবাসো নতুবা আমার মৃত্যু উপহার দাও। কথা গুলি শুনে সবাই হাসতে লাগল। জেসমিন বলল আপা এগুলি তুমি বানিয়ে বলছ। আমি কখন বলেছি। আমি তো কিছুই জানিনা।

কথা গুলি শুনে কাউসার জসমিনের দিকে অপুর্ব দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে যেনো জনম জনমের চেনা সাথী।জেসমিন ও চোখের দৃষ্টি সরাতে পারছে না। আর মনে মনে ভাবছে মানুষ ভালবাসলে কি পাগল হয়ে যায়।যাক নাস্তা খাওয়া শেষ হলো এবার বিদায়ের পালা। কাউসার নিপার আম্মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসল। জেসমিন একা একা বসে ভাবছে তার প্রিয় মানুষটির সাথে তিনমাস পরে আবার দেখা হবে রেজাল্ট বাহির হওয়ার পরে। যে কাউসারকে একদিন না দেখলে সে পাগল হয়ে যায় সেই কাউসারকে সে তিনমাস না দেখে থাকবে কি করে এই কথা গুলি স্মরণ করছে আর ঢল ঢল করে তার চোখ দিয়ে পানি বেরুচ্ছে। সবাই জেসমিনকে খুজেছে জেসমিন গেল কোথায়।

সুমী দেখল জেসমিন বেলকনিতে বসে ঢল ঢল করে চোখের পানি বের করছে। সুমী জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছে জেসমিন বন্ধু আমার। কি এমন দুঃখ তোর মনের ভেতরে তুই একা একা নিরিবিলি থাকিস আর কি যেনো একটা লুকিয়ে রাখিস আমাদের কাছে জেসমনি বলল নারে বন্ধু সকাল বেলা এমনি তে আমার চোখে পানি আসে। প্রিয় পাঠক গণ তিন নায়িকার মধ্যে কাউসারের প্রতি বেশী দূর্বল হয়েছে জেসমিন। জানিনা শেষ পর্যন্ত জেসমিনের কপালে কাউসারকে পায় কি না?

কাউসার নিপা এবং জেসমিন কে বলল তোমরা ভাল থেকো সব সময় তিনমাস পরে আবার দেখা হবে আর এর মধ্যে সিলেট আসলে অবশ্য দেখা হবে এই বলে সে সুমী সাথে নিয়ে বিদায় নিয়ে সুমীর বাসায় চলে গেল। কাউসার সুমীকে বলল আজ বিকেলে আমি চলে যাবো। সুমী বলল আমি জানিনা আম্মাকে জিজ্ঞাসা করব আজ না হয় থাকেন আগামীকাল চলে যাবেন। সুমী গিয়ে তার আম্মাকে বলিল কাউসার আজ বিকেলে চলে যেতে যাচ্ছে। কথা গুলি শুনে জহুরা বেগম বললেন কি বলিস,সে আজ কেন চলে যাবে। জহুরা বেগম কাউসারকে বললেন বাবা আজ থেকে যাও আগামীকাল বিকেলে চলে যেও। আজ বিকেলে আমার ভাইয়ের মেয়ে আসবে।

জহুরা বেগম সুমীকে বললেন সুমীর তোর বান্ধবিরা কোথায় তাদের না নিয়ে তুমি একা চলে আসে। আমি গতকালই ওদের জন্য খাবার আয়োজন করে রাখছি। তোর বান্ধবিদের ফোন দিয়ে বল এখুনি চলে আসতে। সুমী তার আম্মার কাছে নিপাদের বাসার নাম্বার দিয়ে বলল আম্মা তুমি ফোন করে বল এদের আসতে। জহুরা বেগম করার সাথে সাথে নিপার আম্মা ফোন ধরে জিজ্ঞাসা করিলেন কে? সুমীর আম্মা বললেন আপা আমাকে চিনতে পারেন নাই বুঝি আমি সুমীর আম্মা বলছি। নিপার আম্মা সালাম দিয়ে বললেন ওহ আপা আপনি কেমন আছেন। জহুরা বেগম বললেন ভাল আছি, তবে মেয়ে দুটিকে এখনি আমার বাসায় পাঠিয়ে দাও।,ওকে আপা ওরা যাবে আমার তো কোন সমস্যা নেই। ওদের সাথে কথা বলুন। নিপা সালাম দিয়ে বলল খালাম্মা কেমন আছেন। জহুরা বেগম জবাব দিয়ে বললেন আমি ভাল আছি। তোমরা এখনি আমার বাসায় চলে এসো। নিপা বলল ওকে খালাম্মা আমরা আসব।

চলবে…
এক নায়কের সাথে তিন নায়িকা জানিনা কার ভাগ্যে কাউসারের ভালবাসা আছে? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বগুলোতে ধন্যবাদান্তে লেখক।
আগামী পর্ব ছাপানো হবে শুক্রবার

মতামত.........