97b7bb9b5fbd074af25a424fec7c4d9e-Rafiq-1স্পোর্টস ডেস্ক, সংবাদ সবসময় :

প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট এবং ওয়ানডেতে ১০০টি উইকেট পেয়েছিলেন মোহাম্মদ রফিক। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন জাতীয় দলের এই বাঁহাতি স্পিনার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরও এই খেলায় অবদান রাখতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) যে দল যখন ডাক দিয়েছে সেই দলের হয়ে তখন কাজ করেছেন তিনি।

তবে কখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অধীনে কাজ করা হয়নি বাঁহাতি স্পিনার রফিকের। গত ১৭ জুলাই তরুন ক্রিকেটারদের উন্নত প্রশিক্ষাণার্থে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইপি) ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করেছে। এইচপির স্পিন পরামর্শকের (কনসালটেন্ট) দায়িত্ব পেয়েছেন রফিক। এইচপি ক্যাম্পে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে দারুণভাবে মুখিয়ে আছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আবারো ক্রিকেটে ফিরছি, অবশ্যই তো ভালো লাগার মতো ব্যাপার। তবে রোববার কাজে যোগ দেয়ার পর ভালো লাগাটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারব। আমি সব সময় ক্রিকেট উপভোগ করেছি। এখনও তাই উপভোগ করার চেষ্টাটাই করব।’

যদিও এইচপির শুরুতে স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ওয়াহিদুল হক গনি। তিনি মূলত লেগ স্পিনার। তাই দেশের তরুণ বাঁহাতি স্পিনারদের গড়ে তুলতেই রফিকের দ্বারস্থ হয়েছে বিসিবি।

এইচপি ক্যাম্পে তরুণদের নিয়ে কাজ করার বিষয়ে রফিক বলেন, ‘এইচপিতে কাজ শুরু করার পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আমার যে অভিজ্ঞতা ছিল সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। এই ছেলেরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলবে ওখানে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে নজর দেব। আমি দেখেছি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার পর তরুণ ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে ডাক পায়। কিন্তু পরে দেখা যায় তাদের ফিটনেসে বা কৌশলের দিক থেকে অনেক ঘাটতি থাকে। এই জিনিসিটা যেন না থাকে এটা নিয়েই বেশি কাজ করব।’

বাংলাদেশ দল যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে সাফল্যের দেখা পেত না ঠিক ওই সময়কার ক্রিকেটার হলেন রফিক। যদিও পরের দিকে বাংলাদেশ যখন আস্তে-আস্তে করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের দেখা পেতে শুরু করেছে ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিদায় জানিয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার।

বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেকটাই এগিয়েছে। তাই নতুন চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে রফিক বলেন, ‘যেকোনো পর্যায়ে কাজ করাই আমার জন্য চ্যালেঞ্জের। আগে যখন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছি তখনো আমার কাজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখনো তেমনটাই থাকবে বলে আশা করছি। তবে সম্ভাবানময় ছেলেদের নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি খুব খুশি। আগে আমি দেশের জন্য খেলেছি। এখনো দেশের জন্য এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য কাজ করব। এটাই তো আমার কাছে বড় পাওয়া।’

বিসিবি তো ইচ্ছে করলে আরো আগে মোহাম্মদ রফিকের মতো অভিজ্ঞ স্পিনারকে কাজে লাগতো পারতো। কিন্তু তারা তাকে আগে কাজে লাগায়নি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে রফিকের মধ্যে কোনো আক্ষেপও নেই। তিনি মনে করেন বিসিবি যখন আমাকে প্রয়োজন বলে মনে করেছে তখন এইচপি ক্যাম্পের জন্য ডেকেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিসিবি কখন আমাকে ডাকবে এটা তো আসলে তাদের ব্যাপার। হয়তো তারা তখন আমাকে প্রয়োজন মনে করেনি। এখন মনে করেছে, তাই সুযোগ দিয়েছে। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে বর্তমান ক্রিকেটারদের উন্নতি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। যাতে করে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তরুণরা আরো অবদান রাখতে পারে। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব দেশের জন্য কিছু করার। সত্যি কথা বলতে আমার তেমন কোনও আক্ষেপ নেই। আমি এখন তরুণদের নিয়ে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’

কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন রফিক

মতামত.........