,

এ কেমন মা, নবজাতক সন্তান নিয়ে বিপাকে বাবা!

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি-

১০মাস ১০দিন গর্ভে ধারণ করে ও নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই একজন মা সন্তান প্রসব করেন। সেই মা মাত্র ১৭দিনের বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে গেলেন। তার মাতৃত্ববোধ কি একটুও জেগে উঠেনি! এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে-মুখে। গত দেড় বছর আগে ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও এলাকায় নুরুল হকের ছেলে আলমের সাথে পাশের চাড়োল ইউনিয়নের কাঁচনা মুধুপুর এলাকার আলী মউদ্দিনের মেয়ে মরিয়মের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।

বিবাহের পর আলম ও মরিয়মের কয়েক মাস খুব সুন্দর ভাবে সংসার জীবন চলছিল। সুখের সংবাদ পাওয়ার জন্য দু’জনের মতামতের সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন আলম ও মরিয়ম। হঠাৎ স্ত্রী মরিয়মের সাথে পরিবারের মনমালিন্যের কারণে আলমের সুখের সংসারে বিরোধ সৃষ্টি হতে শুরু করে। গর্ভে সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ে মরিয়ম।

এরই মাঝে মরিয়ম আলমের সাথে সংসার করবে না সাব জানিয়ে দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। আলম মরিয়মের গর্ভের সন্তানের কথা চিন্তা করে বিবাহ বিচ্ছেদ না করার জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে অনুরোধ করেন। কিন্তু সন্তান জন্ম লাভের আগেই মরিয়ম তার পরিবারকে বুঝিয়ে আলমের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) করিয়ে নেয়।

গত ১৭দিন আগে মরিয়মের গর্ভ থেকে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। মরিয়ম ওই দিনের নবজাতক সন্তানকে তালাককৃত স্বামী আলমের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ফলে নবজাতক সন্তান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে আলম ও তার বাবা নুরুল হক। আলমের মা পূর্বেই মারা যাওয়ায় নবজাতকের যত্ন নিয়ে এখন ১০দিন যাবত বিপাকে দিন পার করছেন আলম।

আলম জানান, সন্তানের বাবা হওয়া অনেক আনন্দের। কিন্তু নবজাতক শিশুকে তার মা আমার কাছে রেখে চলে গেছে। আমি ও আমার বাবা মরিয়মকে অনেক অনুরোধ করেছি যেন জন্মের পর শিশুটিকে একটু যত্ন করে। আমি ভরণ পোষনের সকল খরচ দিতে চেয়েছি কিন্তু সন্তান জন্মধারিনী মা ও তার পরিবার রাজি হয়নি। শিশুটিকে কিভাবে যত্ন করবো সেটাও জানি না। দিন মজুরি করে কোন রকম সংসার চলে আমাদের। গত ১৭দিন ধরে নবজাতক সন্তানের জন্য কাজেও যেতে পারিনি। কেউ যদি আমার এই নবজাতক সন্তানটির দায়িত্ব নেয় সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

আলম অনুরোধ করে বলেন, কোন দরদি মা যদি আমার এই নবজাতক সন্তানটিকে নিতে চায় দরকার হলে লিখিত ভাবে শর্ত ছাড়াই দিয়ে দিব। যেন মায়ের অযত্নে নবজাতক শিশুটির কিছু না হয়।

নবজাতক শিশুর মা মরিয়মের সাথে যোগাযোগ করলে সে জানান, আলমের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। বিচ্ছেদের আগে যেহেতু সন্তান গর্ভে ছিল তাই জন্মের পর আলমকে সন্তানটি দিয়ে এসেছি। মায়ের দুধ ও যত্ন না পাওয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে এই অনুভূতিটি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

আলমের এলাকাবাসী সেফালি বেগম জানান, মরিয়ম কেমন মা? একটি সন্তান জন্ম দিতে কতই না কষ্ট হয়, সে কি সেই কষ্ট কয়েক দিনেই ভুলে গেছে। একজন পুরুষ মানুষের কাছে এভাবে শিশুটি দিয়ে চলে যাওয়ায় অযত্নে ও মায়ের দুধের অভাবে দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুটি।

আলমের বাবা নুরুল হক জানান, আলম ও আমিই কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পারি করি। কিন্তু মরিয়ম হঠাৎ শিশুটি পাঠিয়ে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। কয়েক মাস শিশুটির লালন পালনের জন্য মরিয়মের পরিবারকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা নবজাতক শিশুটি নিতে নারাজ।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, শুনেছি সন্তান জন্মের পর আলমের স্ত্রী নবজাতকটিকে দিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু শিশুটি ১৭দিন ধরে মায়ের দুধ পান না করায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আলম দরিদ্র হওয়ায় নবজাতকটিকে কেউ যদি লালন-পালনের জন্য নিতে চায় সেজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন যা আমাকে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মতামত.........