,

ইনুভাই কি গণবাহিনীর মতো সন্ত্রাস সৃষ্টি করবেন: আ’লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিন

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগকে এক টাকার সঙ্গে তুলনা করে নিজেরা সেই এক টাকার ২০ পয়সা দাবি করে তাদের শক্তি-সহযোগিতা ছাড়া একহাজার বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দেওয়া বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের বাসভবনে একুশে পত্রিকা’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাসদ লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামলে রাস্তায় মানুষ থাকবে না- বুধবার কুষ্টিয়ায় এক জনসভায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর দেওয়া এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন আমিন। তিনি বলেন, ‘ইনু ভাই যদি মনে করেন তিনি গণবাহিনীর মতো সন্ত্রাস সৃষ্টি করবেন সেটা তার বোকার স্বর্গে বসবাস ছাড়া কিছুই নয়।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানি না ইনু ভাইয়ের মতো মানুষ কেন এ ধরনের কথা বলেছেন। আমরা জাসদ কিংবা মেনন ভাইকে বলিনি যে, তাদের কোনো দাম নেই। দাম না থাকলে তাদেরকে তো আমরা ১৪ দলীয় জোটে নিতাম না। মন্ত্রীও বানাতাম না। এমপি ননিনেশনও দেওয়া হতো না। কেউ যদি নিজেই নিজেকে অস্তিত্বহীন মনে করে সেটা তার দীনতা। আমাদের নয়।’

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ইনুর বক্তব্য কোনো প্রভাব ফেলবে না জানিয়ে কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, রাজনীতির মাঠে অনেকেই অনেক কথা বলেন নিজের দলকে সংগঠিত করার জন্য। ইনু সাহেবও হয়তো তার কর্মীদের অনুপ্রাণিত করার জন্য অথবা তাদের মধ্যে যূথবদ্ধতা তৈরির জন্য এমন কথা বলতে পারেন। এটা যদি রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি না হয়ে প্রকৃতপক্ষেই তার মনের বক্তব্য হতো তাহলে তিনি মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করে প্রমাণ করতে পারতেন ‘আমি তোমাদের সঙ্গে মন্ত্রী নেই। আমি এসবের ধার ধারি না।’ কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে বোঝা যায়, তিনি তার দলকে সংগঠিত করার জন্য, নেতা-কর্মীদের ইনসপায়ার করার জন্য হয়তো এই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ইনু ভাই ও মেনন ভাইয়ের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অতীতকে শ্রদ্ধা রেখে একটি কথা বলি, ওনাদেরকে আওয়ামী লীগের নৌকা ছাড়া নির্বাচন করতে হলে ওনারা সারা বাংলাদেশে কয়টা সিট পাবেন সেটা মানুষই ঠিক করবে। আমি সে কথাগুলো বলতে চাই না। ওনার অবশ্যই মনে থাকা উচিত, যদিও বা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইনু ভাইয়েরা সবাই আওয়ামী লীগেই ছিলেন, ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু এককভাবে দেশের মানুষকে নিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৬টা আসন পেয়েছিলো। মূলত আমরা যেটা চেয়েছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পেছনে ক্রীড়নকের ভূমিকায় ছিল সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াত ও আএসআই। ওরা বারবারই বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার খেলায় মেতেছিল। তখন আমাদের লক্ষ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে এক করে সে যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্টটাকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে পরাজিত শক্তির পরাজয়কে নিশ্চিত করা। সে কারণে আমরা একটা প্লাটফরম করেছিলাম। সে জায়গা থেকে তাদেরকে আমরা জোটে নিয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে খেলু, ছোট মনে করেনি বলেই তাদেরকে নমিনেশন শুধু দেননি, পরবর্তীতে মন্ত্রীও করেছেন।’

‘২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে আসনগুলো আওয়ামী লীগ পেয়েছিল তা সরকার গঠনের জন্য অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল না। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ২৫০ জন প্রার্থী দিয়েছিলো। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩০ জনই জয়লাভ করেছিলেন। ইনু ভাইয়ের এই কথাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। হয়তো ওনার নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা, অথবা ওনি নিজেকেই নিজে ছোট ভাবছেন, হীনম্মন্যতায় ভুগছেন। কেন যে তারা হীনম্মন্যতায় ভুগছেন সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।’- বলেন আওয়ামী লীগের মেধাবী, তারুণ্যদীপ্ত এই নেতা।

সুত্র: একুশে পত্রিকা ডট কম