,

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের’র সফলতার প্রথম বর্ষ

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নুর উদ্দিন মুরাদ, প্রতিবেদক, সংবাদ সবসময়:

 

নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাব দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের।

২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলো ওবায়দুল কাদের। প্রতিবারের জাতীয় কাউন্সিলের ন্যায় যখন শোনা গেলো শেখ হাসিনাই হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি তখন সবার প্রশ্ন জাগলো সাধারন সম্পাদক কে? দলের বিচক্ষন নেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি হয়েছেন ঠিকই কিন্তু চমক এসেছে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। আর ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে আওয়ামীলীগের যে ৬,৫৭০ কাউন্সিলর তারা তো খুশি হয়েছেনই, সেই সঙ্গে সারাদেশের রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক আওয়ামী পরিবারের লক্ষ-কোটি মানুষ খুশি হয়েছেন। খুশি হয়েছেন অন্য রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক রাজনীতি সচেতন। কাজেই সবাই চান রাজনীতি যেন থাকে রাজনীতিবিদদের কাছেই। ওবায়দুল কাদের পুরোদস্তুর আগাগোড়া একজন ফুলটাইম রাজনীতিবিদ। রাজনীতি ছাড়া তাঁর আর কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই।যেখানে অনেক রাজনীতিবিদই ব্যাবসা বানিজ্য আর নিজের আখের নিয়েই ব্যাস্ত!

আমরা যদি এই রাজনীতিবিদের অতিতের দিকে চেয়ে দেখি তবে, এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদের ৬৯এর ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে উঠে আসেন।১৯৭৫ এর পরবর্তি দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজনীতিতে নিরন্তর সংগ্রামের পথ হাঁটা ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার প্রতি ১৯৮১সাল থেকেই নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আসছেন।কেবল নিজ রাজনৈতিক দলে নয়, প্রতিপক্ষ বিরোধী দলগুলোর কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।

শিক্ষক মোশারফ হোসেনের ঘরে ১৯৫২ সালের ১ জনুয়ারি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর মা ফজিলাতুন্নেছা একজন গৃহিণী এবং স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা একজন আইনজীবী।।ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

যোগ্যতার হিসেবে যোগ্য ব্যাক্তিটিকেই যোগ্য আসনে বসিয়েছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ।অবশ্য আরোপিত আসনের সঠিক কর্মও দেখিয়েছেন এক বছরের অনবদ্য ছুটে চলার মধ্য দিয়ে।তিনি প্রতিটি জেলায় জেলায় বিভিন্ন বিভাগীয় প্রতিনিধি ও কর্মিসভা করে দলকে করেছেন উজ্জিবিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।আগামী নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভেনগার্ড হিসেবে।বছরের বিভিন্ন সময়ে আলোচিত বন্যা ও রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে রেখেছেন কঠিন ভুমিকা।ছুটেছেন বাংলার এপার থেকে ওপার। বিশ্রামহীন ক্লান্তিহীন মানুষটি কর্মের মধ্যেই নিজেকে প্রমান করেছেন প্রতিটি মুহুর্তে।

কয়েকজন তৃনমুলের রাজনীতিবিদ ও কর্মীদের কাছে প্রতিবেদক ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, আওয়ামীলীগের ঘরে সোনালী শস্য উঠাতে এই তুখোড় নেতাই যোগ্য ও সঠিক ভুমিকা রেখে চলেছেন। এমন পরিশ্রমী সাধারণ সম্পাদক ভবির্ষতে আর আসবেনা বলেও তারা মন্তব্য করেন।

 

মতামত.........